ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রস্তাবিত ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে সোমবার (১৭ মার্চ) নয়াদিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন আয়োজিত এই বিক্ষোভে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টিসহ বিজেপি-বিরোধী বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করে।
অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড (এআইএমপিএলবি) আয়োজিত এই প্রতিবাদ সভা যন্তর মন্তর এলাকায় সকাল ১০টায় শুরু হয়। দিল্লি এবং এর আশেপাশের অঞ্চল থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেন।
বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব চলাকালীন সংসদ ভবনের নিকটবর্তী যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীরা বিলটি বাতিলের দাবি জানান এবং এআইএমপিএলবি আগামী ২০ মার্চ পাটনায় আরেকটি বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে।
এআইএমপিএলবি সদস্য সৈয়দ কাশিম রসুল ইলিয়াস বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানা থেকে আসা অনেক বাস আটকে দেওয়া হয়েছে। সরকারের ভয় পাওয়ার দরকার নেই, বরং জনগণের কথা শোনা উচিত।”
এআইএমপিএলবি সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহিম মুজাদ্দিদি জানান, সরকার তাদের মতামত না শোনায় তারা এই বিক্ষোভের আয়োজন করেছেন। তিনি যুক্তি দেন, এই বিল মসজিদ ও কবরস্থানের মতো ওয়াকফ সম্পত্তির ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।
এআইএমআইএম সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসি অভিযোগ করেন, যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি) শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন দলের সংশোধনী গ্রহণ করেছে, যা ওয়াকফ বোর্ডকে বিলুপ্ত করবে।
মুজফফরনগর থেকে আসা এক প্রতিবাদকারী জানান, তাদের অধিকারে হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে তিনি বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন।
জেপিসি চেয়ারম্যান জগদম্বিকা পাল জানান, এআইএমপিএলবি তাদের উদ্বেগ কমিটির কাছে জানিয়েছে এবং তাদের বক্তব্য প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এআইএমপিএলবি ঘৃণার রাজনীতি ছড়াচ্ছে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।
ওয়াকফ বিলটি সংসদে পেশ করা হলে বিরোধী দলগুলো এর প্রতিবাদ করে। পরে, বিজেপি সাংসদ জগদম্বিকা পালের নেতৃত্বে জেপিসি গঠন করা হয়। জেপিসি রিপোর্টে শুধুমাত্র বিজেপি ও তাদের মিত্রদের সংশোধনী গ্রহণ করা হয়, যা বিরোধী দলগুলোর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করে।
সাংবাদিক সালাহউদ্দিন জৈন জানান, এই বিক্ষোভের মাধ্যমে এআইএমপিএলবি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। তিনি আরও বলেন, তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র, কংগ্রেসের সলমন খুরশিদ, সমাজবাদী পার্টি, জেডিইউ এবং বিজেডি-র মতো বিরোধী দলের নেতারা বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন।
এবি রউফ গিয়ানি জানান, বিক্ষোভকারীরা ওয়াকফ বিল আইনে পরিণত হলে দেশব্যাপী শাহিনবাগের মতো প্রতিবাদ জানানোর হুমকি দিয়েছেন।